‘মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান খ্যাপা খুঁজে ফেরে পরশ পাথর’ মোঃ বরকত উল্লাহ পাঠানের লেখা একটি জীবন ও কর্মভিত্তিক গ্রন্থ। এতে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, লোকসাহিত্য এবং ইতিহাস-সংস্কৃতি সংরক্ষণে মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান-এর দীর্ঘ কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে।
‘দুর্গনগরী’ উয়ারী-বটেশ্বরের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার, সংগ্রহ, গবেষণা এবং এসব নিদর্শন গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা এই গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ জাদুঘর নির্মাণ, ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্ননিদর্শন সযত্নে সংরক্ষণ এবং সর্বসাধারণের দেখার ব্যবস্থা করার বিষয়ও এতে স্থান পেয়েছে।
গবেষকদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে বসা লোকসাহিত্যের মূল্যবান উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে তা সর্বমহলে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাও বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকসাহিত্যের এসব মূল্যবান উপাদান সংগ্রহ করতে গিয়ে মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান নিজের সর্বস্ব পর্যন্ত ব্যয় করেছেন। তাঁর ৮৬ বছরের সফল কর্মজীবনে দেশ ও জাতির জন্য করা বহুমুখী কাজের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু অধ্যায় পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই এই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য।
ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, লোকসাহিত্য, উয়ারী-বটেশ্বর এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি হতে পারে একটি তথ্যবহুল ও তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন।