শ্রাবণের বিষণ্ন সন্ধ্যা মুমিনুল হাসানের একটি আবেগঘন সমকালীন উপন্যাস। শ্রাবণের এক মধ্যরাতের ছাদ, দোলনায় দুলতে থাকা বেনজিন এবং তাকে নীরবে দোল দিতে থাকা আকাশ—এই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে ভালোবাসা, আকর্ষণ, কল্পনা ও না-বলা অনুভূতির এক মায়াবী জগৎ উন্মোচিত হয়।
বেনজিন নিজের মতো করে দোলনার আনন্দ উপভোগ করে চলেছে। তার প্রতি আকাশের আকর্ষণ ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে। বেনজিনের উপস্থিতি, তার চুলের স্পর্শ, শরীরের মিষ্টি সুবাস—সবকিছু আকাশের অনুভূতিকে আলোড়িত করে। কিন্তু বেনজিনের মনের ভেতরেও কি একই রকম কোনো দোলা চলছে? নাকি তার অনুভূতির খবর একমাত্র তার নিজের কাছেই?
আকাশ নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করে, অথচ মনের গভীরে জমে থাকে ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা। মধ্যরাতের নির্জন ছাদ, দোলনার মৃদু দোলা আর শ্রাবণের বিষণ্ন আবহে তার কল্পনা বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করে। প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা এবং মনের অপ্রকাশিত কথাগুলো একসময় হয়ে ওঠে তার অন্তর্লোকের প্রধান অনুভূতি।
‘শ্রাবণের বিষণ্ন সন্ধ্যা’ তাই শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়; এটি ভালোবাসার আকর্ষণ, মনের গোপন অনুভূতি, কল্পনা ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনের এক আবেগময় উপাখ্যান।